টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে ‘টুলের ব্যবসা’—রেলকর্মীদের পকেটে যাচ্ছে যাত্রীদের টাকা?
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে ‘টুলের ব্যবসা’—রেলকর্মীদের পকেটে যাচ্ছে যাত্রীদের টাকা?
ট্রেনের টিকিট আছে, কিন্তু আসন নেই—আর সেই সুযোগই কি এখন রেলকর্মীদের অবৈধ আয়ের নতুন ক্ষেত্র?
বিভিন্ন রুটের ট্রেনে আসনবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে টুলে বসিয়ে যাত্রার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে এতটাই পরিচিত যে, অনেকের ভাষায় এটি এখন আর গোপন কিছু নয়—একেবারে ‘ওপেন সিক্রেট’।
সম্প্রতি টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে দেখা গেছে এমনই এক চিত্র।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসনবিহীন যাত্রীদের ট্রেনের ভেতরে টুলে বসিয়ে যাত্রার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই অর্থ রেলওয়ের সরকারি রাজস্বে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীদের মধ্যেই ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে।
যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে প্রশ্ন একটাই—
রেলের কোচ কি যাত্রী পরিবহনের জন্য, নাকি রেলকর্মীদের ব্যক্তিগত আয়ের ‘ব্যবসা’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য?
আরও বিস্ময়কর বিষয়, টিকিটবিহীন যাত্রী ধরতে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও—যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে কোনো রেলকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়?
কেন টিকিটবিহীন যাত্রীর বিরুদ্ধে কঠোরতা, কিন্তু অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত রেলকর্মীদের ক্ষেত্রে নীরবতা?
🔎 এবার আসা যাক টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কোচ সংখ্যার প্রশ্নে
কাগজে-কলমে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের জন্য ১০টি কোচ বরাদ্দ থাকার তথ্য রয়েছে। অথচ বাস্তবে ট্রেনটি বর্তমানে মাত্র ৭টি কোচ নিয়ে চলাচল করছে বলে অভিযোগ/তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তাহলে বাকি ৩টি কোচ কোথায়?
এই তিনটি কোচ কি নিয়মিতভাবে সংযুক্ত না করার পেছনে কোনো প্রশাসনিক কারণ রয়েছে? নাকি কম কোচের কারণে তৈরি হওয়া আসন সংকটই কোনো চক্রের জন্য অবৈধ আয়ের সুযোগ তৈরি করছে?
আর যদি সত্যিই আসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থের হিসাব কোথায়?
❗ আরও বড় প্রশ্ন
এ ধরনের অনিয়ম যদি নিয়মিত ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কি বিষয়টি জানেন না?
আর যদি জানেন—তাহলে ব্যবস্থা কোথায়?
আর যদি না জানেন—তাহলে তাঁদের তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় রাজস্বের অংশ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেটি শুধু যাত্রী হয়রানি নয়—রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত।
তাই অভিযোগগুলোকে হালকাভাবে না নিয়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে কোচ বরাদ্দ, প্রকৃত কোচ সংখ্যা, আসনবিহীন যাত্রী পরিবহন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা হোক।
কারণ প্রশ্নটা শুধু একটি ট্রেনের নয়—